Sunday, 3 April 2011

চতুর্মাত্রিক

চতুর্মাত্রিক
জিয়া চৌধুরী
-------------------------
চতুর্মাত্রিকে আজ আমরা বন্দি ভীষন
হীরা ভেবে ভুল করে কাচ তুলে নিই
মোহ আর ভালবাসা এক করে দিই
মোহ কেটে গেলে বলি
এত হীরে নয়- দুর ছাই দুটাকার কাচঁ।

অথচ ভালবাসা কেটে যায়না কিছুতেই
জীবনে ও মরণে এক সাথে থাকা।

তবুও আমার কাঁচকেই ভাল লাগে।
হীরা যে অনেক দামী-
বড় বড় শপিং মলের শোকেচে তাকে দেখতে ভাল লাগে।
কাচঁ পাওয়া যায় অতি সহজে।
তাই আমার কাচঁই বেশি প্রয়োজন- বহুমূল্য হীরের চেয়ে।

প্রতিশোধের আগুন ---------------------

প্রতিশোধের আগুন
---------------------

এবার রক্তে জেগে উঠে প্রতিশোধের আগুন
ক্রোধে ক্রোধান্বিত হয় দয়িতা আপন।
মানবী নয় দয়িতা আপন দেবী
রক্ত মাংসের ভক্ত চুম্বনে পদসেবী।
দুহাজার বছরের অপেক্ষায় দিন গুনে বালক
সাথে আছে তার পিতা প্রতিপালক।
দেবীর খোজে পাড়ি দিয়ে পাহাড় নদী সমভূমি
পেরিয়ে অবশেষে মেলে দেবীর আপন ভূমি।
দেবীর দয়িতকে আপন করে চায় কালুন খানিয়া
দেবীকে ফিরিয়ে দেয় তার দয়িতকে রাখিয়া।
শত বছরের অপেক্ষার যে শেষ হয়না আর
দেবীর ক্রোধে বুঝিবা কালুন হবে ছারখার।
মিলিয়াও মিলিল না দু প্রেমিক প্রেমিকা
বাধা দুজনার দুজনে মাটি-অগ্নিশিখা।
ছলনার মায়াজালে আবদ্ধ দেবীর দয়িত
জ্বলে উঠল দেবী নিবে দয়িতের প্রতিশোধ।
দেবীর ক্রোধে পড়িল ভক্ত তপ্ত আগুনে
এভাবেই ক্রোধ প্রশমিত হল নগর কালুনে।

<সমুদ্র দেখবো বলে ঘরে ফেরা>

প্রহরে প্রহর কেটে যায়-
যাক, তবে আমার প্রহর কাটেনা
সমুদ্র দেখার প্রচন্ড সাধ-
মেটেনা, কিছুতেই না।

তাই নীড়ে ফেরা-
তবে একেবারে নয়,
সমুদ্র দেখবো বলে আমার আজন্ম সাধ
এবার মেটাবোই।

বাসন্তী সন্ধ্যায় সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বালিয়ে
কে তুমি আছো বসে?
ভালবাসার সোনাবীজ ছড়িয়ে
আমার অপেক্ষাতে।

কেটে যাক অপেক্ষার প্রহর-
কেটে যাক দিন
ভাল থেকো সজনী বন্ধু আমার
ভাল থেকো চিরদিন।

স্বাধীনতার হিসাব


চল্লিশ বছর পেরিয়ে আজ হিসেবের খাতা খুলি
কি পেলাম দেশ হতে, আর কি দিলাম এই দেশকে
তা আপন মনেই বলি

বারে বারে স্বাধীন আর পরাধীন হওয়া এই দেশ
বখতিয়ার থেকে শেখ মুজিব
লক্ষ প্রাণের বিনিময়,
তবুও কি মিলেছে কাংখিত স্বাধীনতা?

স্বার্থ ও সংঘাত পদে পদে পরাধীন করে রেখেছে আমাদের
দুবেলা দুমুঠো আহার জোটেনা, জোটে নোবেল
জোটে সুপার পাওয়ারের সুপার থ্রেট
চেয়ার দাও নয়তো বানিজ্য বন্ধ।

আমরা স্বাধীন, আমরা গর্ব করেই বলি
ক্রিকেটে পাকিস্থানের বিজয়ে তাই পাড়ায় মিছিল করি।
আমরা নজরুলের মত উন্নত মম শির হতে পারিনা - তাই
রবী ঠাকুরের মত মাথা নত করি চরণ ধুলার তলে।

আমরা স্বাধীন, কথাটা শুনলেই রুপকথা বলে মনে হয়
দুনেত্রীর চেয়ার টানাটানি আর সংসদে অশ্রাব্য গালিগালাজ
জনগণের মেহনতের পয়সা হয়ে যায় মন্ত্রীদের দামি শাড়ি - স্যুট
আমরা স্বাধীন আজ। এই কথাটা যতবার শুনি ততবার মাথা হেট হয়।

আমারে যে ভালবেসে কাছে পেতে চায়

এ আমার বৃথা আকুতি
আমি জানি
যে আমার নয়,
তাকে পাবার কেন মিছে অভিনয়।

যে চায় উড়তে বন্ধনহীন, তাকে
খাচায় পুরতে চাওয়াটাই আমার বড় ভুল
সোনার খাচায় মজেনি আমার পাখি
রুপালী শিকল ছিড়ে পালিয়েছে দুর দিগন্তে

তাই আজ আমি আমার মত করেই বেচে থাকি
আমার প্রাণের বৃথা আকুতি
যে শুনতে চায়না, বুঝতে চায়না
কেন শুধু তারে পিছু ডাকাডাকি?

যে যেতে চায় - যাকনা
আমারে যে ভালবেসে কাছে পেতে চায়
তার জন্য আমার সবকিছু
উজাড় করে আমি নি:স্ব হবো।

আমার সোনার খাচাঁ আজ খালি পড়ে রয়
আমার পুরোন সংস্কার আর বংশগত গর্বের বলি হয়ে
যে ছিল আমার পুরোন সাথী
আমা হতে অনেক অনেক দুরে সরে যায়।