Tuesday, 1 November 2011

UniBijoy / Unijoy Layout for Avro Keyboard


বিজয় আর ইউনিজয় কখনোই এক নয়।

OmicronLab has removed the UniBijoy keyboard layout from their popular Bangla typing software “Avro” due to a copyright claim from Mustafa Zabbar. Though the UniBijoy layout is similar to the Bijoy layout, but it wasn’t the same as it has minimum 8 differences with the Bijoy layout. Yet OmicronLab removed the UniBijoy keyboard to avoid controversy.

Meanwhile, some of us are so much acquainted with the UniBijoy layout that Bangla typing became a little difficult for us. I am one of them and i find it very cumbersome to get used to with a new layout. So, i was trying a solution for that.
Luckily, i found out earlier that just copying the layout file into a specific folder or even double clicking on the layout file installs the layout. So, i copied the UniBijoy.avrolayout file from the older Avro version 4.5.3 and installed Avro 5.1.0 and installed it and its working fine.
So, to download the UniBijoy Layout for Avro 5.1.0 or earlier, click here. (You need winrar/7zip to extract)
To download Avro keyboard, click here.

Sunday, 3 April 2011

চতুর্মাত্রিক

চতুর্মাত্রিক
জিয়া চৌধুরী
-------------------------
চতুর্মাত্রিকে আজ আমরা বন্দি ভীষন
হীরা ভেবে ভুল করে কাচ তুলে নিই
মোহ আর ভালবাসা এক করে দিই
মোহ কেটে গেলে বলি
এত হীরে নয়- দুর ছাই দুটাকার কাচঁ।

অথচ ভালবাসা কেটে যায়না কিছুতেই
জীবনে ও মরণে এক সাথে থাকা।

তবুও আমার কাঁচকেই ভাল লাগে।
হীরা যে অনেক দামী-
বড় বড় শপিং মলের শোকেচে তাকে দেখতে ভাল লাগে।
কাচঁ পাওয়া যায় অতি সহজে।
তাই আমার কাচঁই বেশি প্রয়োজন- বহুমূল্য হীরের চেয়ে।

প্রতিশোধের আগুন ---------------------

প্রতিশোধের আগুন
---------------------

এবার রক্তে জেগে উঠে প্রতিশোধের আগুন
ক্রোধে ক্রোধান্বিত হয় দয়িতা আপন।
মানবী নয় দয়িতা আপন দেবী
রক্ত মাংসের ভক্ত চুম্বনে পদসেবী।
দুহাজার বছরের অপেক্ষায় দিন গুনে বালক
সাথে আছে তার পিতা প্রতিপালক।
দেবীর খোজে পাড়ি দিয়ে পাহাড় নদী সমভূমি
পেরিয়ে অবশেষে মেলে দেবীর আপন ভূমি।
দেবীর দয়িতকে আপন করে চায় কালুন খানিয়া
দেবীকে ফিরিয়ে দেয় তার দয়িতকে রাখিয়া।
শত বছরের অপেক্ষার যে শেষ হয়না আর
দেবীর ক্রোধে বুঝিবা কালুন হবে ছারখার।
মিলিয়াও মিলিল না দু প্রেমিক প্রেমিকা
বাধা দুজনার দুজনে মাটি-অগ্নিশিখা।
ছলনার মায়াজালে আবদ্ধ দেবীর দয়িত
জ্বলে উঠল দেবী নিবে দয়িতের প্রতিশোধ।
দেবীর ক্রোধে পড়িল ভক্ত তপ্ত আগুনে
এভাবেই ক্রোধ প্রশমিত হল নগর কালুনে।

<সমুদ্র দেখবো বলে ঘরে ফেরা>

প্রহরে প্রহর কেটে যায়-
যাক, তবে আমার প্রহর কাটেনা
সমুদ্র দেখার প্রচন্ড সাধ-
মেটেনা, কিছুতেই না।

তাই নীড়ে ফেরা-
তবে একেবারে নয়,
সমুদ্র দেখবো বলে আমার আজন্ম সাধ
এবার মেটাবোই।

বাসন্তী সন্ধ্যায় সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বালিয়ে
কে তুমি আছো বসে?
ভালবাসার সোনাবীজ ছড়িয়ে
আমার অপেক্ষাতে।

কেটে যাক অপেক্ষার প্রহর-
কেটে যাক দিন
ভাল থেকো সজনী বন্ধু আমার
ভাল থেকো চিরদিন।

স্বাধীনতার হিসাব


চল্লিশ বছর পেরিয়ে আজ হিসেবের খাতা খুলি
কি পেলাম দেশ হতে, আর কি দিলাম এই দেশকে
তা আপন মনেই বলি

বারে বারে স্বাধীন আর পরাধীন হওয়া এই দেশ
বখতিয়ার থেকে শেখ মুজিব
লক্ষ প্রাণের বিনিময়,
তবুও কি মিলেছে কাংখিত স্বাধীনতা?

স্বার্থ ও সংঘাত পদে পদে পরাধীন করে রেখেছে আমাদের
দুবেলা দুমুঠো আহার জোটেনা, জোটে নোবেল
জোটে সুপার পাওয়ারের সুপার থ্রেট
চেয়ার দাও নয়তো বানিজ্য বন্ধ।

আমরা স্বাধীন, আমরা গর্ব করেই বলি
ক্রিকেটে পাকিস্থানের বিজয়ে তাই পাড়ায় মিছিল করি।
আমরা নজরুলের মত উন্নত মম শির হতে পারিনা - তাই
রবী ঠাকুরের মত মাথা নত করি চরণ ধুলার তলে।

আমরা স্বাধীন, কথাটা শুনলেই রুপকথা বলে মনে হয়
দুনেত্রীর চেয়ার টানাটানি আর সংসদে অশ্রাব্য গালিগালাজ
জনগণের মেহনতের পয়সা হয়ে যায় মন্ত্রীদের দামি শাড়ি - স্যুট
আমরা স্বাধীন আজ। এই কথাটা যতবার শুনি ততবার মাথা হেট হয়।

আমারে যে ভালবেসে কাছে পেতে চায়

এ আমার বৃথা আকুতি
আমি জানি
যে আমার নয়,
তাকে পাবার কেন মিছে অভিনয়।

যে চায় উড়তে বন্ধনহীন, তাকে
খাচায় পুরতে চাওয়াটাই আমার বড় ভুল
সোনার খাচায় মজেনি আমার পাখি
রুপালী শিকল ছিড়ে পালিয়েছে দুর দিগন্তে

তাই আজ আমি আমার মত করেই বেচে থাকি
আমার প্রাণের বৃথা আকুতি
যে শুনতে চায়না, বুঝতে চায়না
কেন শুধু তারে পিছু ডাকাডাকি?

যে যেতে চায় - যাকনা
আমারে যে ভালবেসে কাছে পেতে চায়
তার জন্য আমার সবকিছু
উজাড় করে আমি নি:স্ব হবো।

আমার সোনার খাচাঁ আজ খালি পড়ে রয়
আমার পুরোন সংস্কার আর বংশগত গর্বের বলি হয়ে
যে ছিল আমার পুরোন সাথী
আমা হতে অনেক অনেক দুরে সরে যায়।

Thursday, 3 March 2011

সময় থাকতে ফেসবুক নিয়ে ধান্দাবাজি বন্ধ করেন, গ্রামীণফোন

 লেখক: মেহদী হাসান খান
সুত্র: http://www.sachalayatan.com/omicronlab/37843

১) গত মঙ্গলবার রাতে গ্রামীণফোনের মার্কেটিং শাখা কমিউনিকেশন ডিভিশন থেকে রিফাত এবং আমি জরুরী ফোন পাই। গ্রামীণফোন ফেসবুক থেকে একটা এন্ডোর্সমেন্ট চেয়েছিল, সেটা পেতে যাচ্ছে এবং তার প্রেক্ষিতে ফেসবুক বাংলা লোকালাইজেশনের কাজ বড় আকারে করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকা কী জানতে চাইলে বলা হয়, এখানে অভ্র ব্যবহার করলে আমাদের আপত্তি বা কোন ধরনের দাবী আছে কিনা সে নিয়ে ছোট একটা মিটিং-এ বসতে হবে। উদ্যোগটা শুনে ভালো লেগেছিল। তাই “জাতীয় সঙ্গীত ভিন্নভাবে গাওয়া” অথবা “দুনিয়া কাঁপানো ত্রিশ মিনিট” এর মতো নষ্টামির বাইরে একটা সত্যিকার কাজের কাজ হতে যাচ্ছে ভেবে মুহূর্তের নোটিশে ছুটি জোগাড় করে ঢাকা চলে এসেছিলাম।
যাই হোক, মিটিং শেষ করে করে বুঝলাম, কর্পোরেট রাজ্যে আধিপত্য থাকলেও স্বেচ্ছাশ্রম, ক্রাউডসোর্স অথবা ওপেনসোর্স দুনিয়া সম্পর্কে জিপির এই ক্যাম্পেইন সংশ্লিষ্ট লোকজন খুব একটা ওয়াকিবহাল না। অভ্র কমার্শিয়াল কাজে ব্যবহার করলেও কেন এবং কিভাবে ফ্রি হয় এটা বুঝাতেই আমাদের কালোঘাম ছুটে গিয়েছে। মোজিলা পাবলিক লাইসেন্সের রেফারেন্স দাওয়ার পরেও তাদের অনুরোধে “অভ্র ব্যবহার করলে আমাদের আপত্তি নাই” লিখে মেইল করে দিতে হয়েছে। এবং প্রেস রিলিজটা বের হবার পর বুঝলাম, ক্রাউডসোর্সিং বা বাংলায় অনুবাদ করা দূরে থাক, বাংলা লিখতে কী লাগে সেটা নিয়ে পর্যন্ত তাদের ধারণা নাই। একই সাথে নাই ইতিমধ্যে যাঁরা স্ব-উদ্যোগে ফেসবুকের বাংলা করার কাজটা অর্ধেকের বেশি এগিয়ে নিয়ে এসেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করার মানসিকতা। তাদের উদ্যোগটা ভালো হতে পারে, কিন্তু উদ্দেশ্য এবং প্রচারভঙ্গী নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন তোলা যায়। হাসিব ভাইয়ের পোস্টে বিস্তারিত বলা হয়েছে, আগ্রহীরা এখান থেকে পড়ে নিন: ফেইসবুক অনুবাদের কৃতিত্ব হাইজ্যাকে গ্রামীণ ফোনের চেষ্টা
আমাকে বলা হয়েছিল এই ক্যাম্পেইন কয়েকটা পর্যায়ে করা হবে। তার অর্থ এখনো সংশোধনের সুযোগ আছে। সেজন্যেই এই লেখা।
২) কোনরকম কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান অথবা “বাংলা ভাষার আপন কাগুদের” সাহায্য ছাড়া ফেসবুকের অর্ধেকের বেশি বাংলা লোকালাইজেশনের কাজ শেষ হয়েছে, বাকিটাও হবে। যেমনভাবে হয়েছে উইকিমিডিয়া, ফায়ারফক্স, অপেরা, ওয়ার্ডপ্রেস, পানবিবি, পিএইচপিবিবি, নোম ইত্যাদি অসংখ্য সফটওয়্যারের লোকালাইজেশনের কাজ। আমি বাংলা কম্পিউটিং সংক্রান্ত খবরের খোঁজ রাখার চেষ্টা করি সবসময়, তারপরও যেসমস্ত স্বেচ্ছাসেবক নিজের ব্যক্তিগত সময় এবং শ্রম দিয়ে এসব কাজ করেছেন তাঁদের বেশিরভাগকেই চিনি না। কারণটা খুব সহজ, আত্মপ্রচার নিয়ে তাঁরা লালায়িত নন। তাঁরা যেটা করছেন বা করছেন সেটা নিজের ভাষার জন্য ভালোবাসা থেকে আসা দায়িত্ববোধ থেকেই। তাঁদের প্রাপ্য সম্মান দিতে শিখুন। গ্রামীণফোন যেখানে এখন পর্যন্ত বুঝেও উঠতে পারে নাই লোকালাইজেশন প্রজেক্ট কিভাবে চলে, সেখানে “...গ্রামীণফোন ও ফেসবুক যৌথভাবে এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে আপনি চাইলেই হতে পারেন এর সফল অনুবাদক...” এ ধরনের নির্লজ্জ মিথ্যাচার বন্ধ করুন। ফেসবুকে অনুবাদক হতে হলে কোন ছাতা ফোনেরও দরকার নাই, যদু-মধু-কদু সবাই হতে পারে। আপনারা কী খান জানিনা, কিন্তু পাবলিক “যা গিলাবেন তাই খাবে” এটা ভাবলে এখনও বোকার স্বর্গে আছেন।
৩) আপনাদের দেশপ্রেমের ওরস্যালাইন মেশানো ফর্মুলার টিভি কমার্শিয়াল আমাদের গা সওয়া হয়ে গেছে, খুব স্থূলভাবে তাকিয়েও সেগুলোর ভিতরের কংকালটা আমরা এখন দেখে ফেলি। তারপরও ফেব্রুয়ারি আসলেই আপনাদের মধ্যে ভাষার জন্য ভালোবাসা দেখানোর আলগা প্রতিযোগিতাটা থামে না। লোকালাইজেশনের কাজটা যদি সত্যিই করার ইচ্ছা থাকে তাহলে রকম একটা/দুইটা ফেব্রুয়ারির হুজুগে সেটা কাজ শেষ করে ফেলবেন ভাবাটা ভুল হবে। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। ফেসবুকের উন্নয়নের সাথে সাথে এর স্ট্রিং টেবিলে নতুন নতুন সংযোজন ঘটবে, সেগুলার অনুবাদও চালিয়ে যেতে হবে। দৌড়ে এসে পানিতে ঝাপ দেয়ার আগে সেটা কত গভীর দেখে নেয়া ভালো।
৪) লোকালাইজেশন সংবেদনশীল কাজ। পুরষ্কার কপালে জুটে না, কিন্তু এদিক ওদিক হলে তিরস্কার একটাও মাটিতে পড়ে না। এর আগে মাইক্রোসফটের কল্যাণে “মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এখন অবসর নিচ্ছে” (Microsoft Windows is now shutting down) অথবা গুগলের "খোঁজনদণ্ড" (Search bar), "ঠিকানাদণ্ড" (Address bar)- এ ধরনের হাস্যকর অনুবাদ আমরা দেখেছি। আপনাদের প্রাথমিক পরিকল্পনায় বাংলা একাডেমীকে যুক্ত করার কথা ছিল বলে জানিয়েছিলেন আমাদের, প্রেস রিলিজে সেটা আর দেখা যায়নি। সম্ভব হলে কিছু যোগ্য লোক খুঁজে নিয়ে কাজে বসান। আর পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার আগে নিজেদের জিপিআইটি বিভাগের কাউকে হলেও দেখিয়ে নিন। শুধুমাত্র একটা ফন্ট থাকলেই অনুবাদ করা যায় এটা কোথায় পেয়েছেন?
৫) প্রথমে ভেবেছিলাম গ্রামীণফোনের ত্রাণ ছাড়াই যে ৫০০ জন মানুষ ইতিমধ্যে ফেসবুক লোকালাইজেশনের কাজে অংশ নিয়েছে এবং কাজটা প্রায় শেষ করে এনেছেন তাঁদের পরে আপনাদের লাইনে দাঁড়াতে বলাটা যুক্তিযুক্ত হবে। কিন্তু আপনাদের তো আসলে সেটুকু অবদানও নাই। আপনাদের খবরের কাগজে কেনা জমি আছে, সেই যোগ্যতায় নিজেদের প্রচারকের ভূমিকাতে রাখলেই ভালো করবেন। যদি আদৌ কিছু করতে চান, যারা এখনও জানে না ফেসবুক ইতিমধ্যেই বাংলা আছে সেটা তাদের জানান, যারা বাকি কাজটুকুতে অংশ নিতে চান তাদের পথটা দেখিয়ে দিন। এবং সেইসাথে এক্ষেত্রে আপনাদের ভূমিকা যে এই জানানো পর্যন্তই সেটা বলার সৎ সাহস দেখালে ভালো করবেন। বিজ্ঞাপনে টেলিনরের লোগোর পাশে ফেসবুকের লোগো বসানোর অনুমতি পাওয়া আপনাদের জন্য ভীষণ উল্লাসের কারণ হতে পারে, উই ডোন্ট গিভ আ শিট।

Thursday, 24 February 2011

[লেখকঃঅভ্রনীল]উৎপল শুভ্র’র উৎপাত আর কত?

আগেই বলে রাখি যে আমি ক্রিকেটবোদ্ধা নই, ক্রিকেটপ্রেমীও নই। টিভির সামনে টানা বসে ক্রিকেট খেলা দেখিনা, ধৈর্য হয়না। টুয়েন্টি-টুয়েন্টি, ওয়ান্ডে বা টেস্ট যাই হোক না কেন — বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ম্যাচ শেষে ফলাফলটা জেনে নেই। ওটাই আমার জন্য অনেক কিছু। তবে বাংলাদেশের খেলা থাকলে অবশ্য অন্য কথা। টেস্ট ছাড়া বাকী দুটো’র জন্য কিছুক্ষণ পর পরই আপডেট জানা দরকার হয়ে পড়ে। সোজা কথা, দর্শক হিসেবে বাংলাদেশের একজন সাধারণ মাপের দর্শকের চেয়েও আমার অবস্থান অনেক নিচে। ক্রিকেটের প্রতি টান নেই, তবে টান রয়েছে বাংলাদেশের প্রতি। তাই ক্রিকেট খেলতে যখন বাংলাদেশ মাঠে নামে, তখন এই টানটাই আমাকে সেই ম্যাচে বুঁদ হয়ে থাকতে অনুপ্রেরণা যোগায়। তাই আমার এই লেখাটিকে ক্রিকেটিয়-বিশ্লেষণ ধরণের কিছু মনে করবার কোন কারণ নেই। গত কয়েকদিন ধরে উৎপল শুভ্র নামের এক সাংবাদিকের হাগড়পাগড় রিপোর্টিং পড়ে নিতান্তই মেজাজ খারাপ হয়ে এই লেখাটির জন্ম।
মাঝে মাঝে খুব অবাক হই যখন তাকিয়ে দেখি যে ২৩-২৪ বছরের ছেলেগুলো কী দৃপ্তভাবে সামনে থেকে আমার হত দরিদ্র দেশটিকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে! যখন ২৩-২৪ বছরের নিজের দিকে তাকাই, যখন চিন্তা করি যে ষোল কোটি মানুষকে তুলে ধরা ঐ ছেলেগুলোর তুলনায় আমি নিজে কি করেছি, তখন ছেলেগুলোর জন্য এক ধরনের গর্বে বুক ভরে যায়। ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন সাকিবের কথাই ধরুন। ষোল কোটি মানুষের প্রত্যাশা নিয়ে ছেলেটি ১১ জনের একটি দলকে বিশ্ব পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমার ২৩ বছর বয়সে যদি আমাকে এই কাজটা দেয়া হত তাহলে ভয়ে আদৌ নিতাম কিনা কে জানে! অবশ্য আমার নেয়ার আগেও বড় কথা হচ্ছে আমাকে দেয়া হত কিনা! আমি বুকে হাত রেখে বলতে পারি, খেলাটাকে উপভোগ করার যোগ্যতা থাকলেও খেলাটিতে বাংলাদেশের জাতীয় দলের অধিনয়াকত্ব করার নূন্যতম যোগ্যতাও আমার নেই। যে কাজে আমার যোগ্যতা নেই, সেই কাজটিই যখন তরুণ একজন ছেলে অসম্ভব অবিচলভাবে দৃপ্ততার সাথে করে চলেছে তখন তাকে স্যালুট জানাতেই হয়। সতেরই ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজেদের অধিনায়ককের তাই দেশের মানুষ বরণ করে নিয়েছিল তুমুল হর্ষধ্বনির মাঝ দিয়ে। সেই হর্ষধ্বনি কিন্তু বাংলাদেশ দলের প্রতি দেশের মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসার অতি ক্ষুদ্র একটা অংশ। সাকিব আল হাসানকে যখন অধিনায়ক করা হয় তখন তার যোগ্যতা, তার মেধা, তার অতীত পারদর্শীতা, সর্বোপরি তার জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতা — সব কিছুকেই বিচার করা হয়েছে। সাকিবকে অধিনায়ক ঘোষণার পর কাউকে প্রতিবাদ তো দূরের কথা, কোন ধরনের আক্ষেপ পর্যন্ত করতে শোনা যায়নি, বরং সবাই আশস্তই হয়েছিল! কারণ সাকিব আল হাসান লোকজনের কাছে সেই বিশ্বাস অর্জন করেছিল।
ভীষণ ব্যস্ততায় ইদানিং দিন কাটাচ্ছি। এরই মাঝে সময় বের করে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতে বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলা দেখলাম। আগেই বলেছি ক্রিকেট বুঝিনা। তারপরও ভারতের বিশাল রানের পাহাড় দেখে মন খারাপ হয়েছিল, কিন্তু তামিম আর ইমরুলের ব্যাটিং সূচনা দেখে সেই মন খারাপ ভাবটা বেশিক্ষণ থাকেনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ম্যাচে হেরে গেলেও অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম যে নিজের ভেতরের মন খারাপ ভাবটা আর ছিলনা। বাংলাদেশের “বিনা যুদ্ধে নাহি দেব ছাড়” ধরণের মানসিকতাটা ছিল দেখার মত। দ্বিতীয় ইনিংস দেখে একবারও মনে হয়নি যে বাংলাদেশ খেলা নিয়ে বিচলিত, তারা আগে থেকেই হার মেনে নিয়েছে — বরং ভারতের মাঝেও একসময় আতংক তৈরি করেছিল। খেলা শেষে যার সাথেই কথা হয়েছে কারো মুখে বাংলাদেশ দলকে আক্রমন করে কিছু বলতে শুনিনি, তাই ভেবেছিলাম যে দলের স্পোর্টসম্যানশিপে সবাই খুশি। ভুল ভেবেছিলাম। সবাই যে খুশি নয় সেটা জানতে পারলাম পরদিন — প্রথম আলোর সাংবাদিক উৎপল শুভ্র’র লেখা পড়ে!
২০শে ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোতে “পরাজয়ে প্রাপ্তি ভবিষ্যতের রসদ” নামে উৎপল শুভ্র’র একটা লেখা বের হয়। লেখাটার প্রায় প্রতিটি লাইনেই বাংলাদেশ দলের পারফর্ম্যান্সে লেখকের হতাশা প্রকাশ পেয়েছে। এক পর্যায়ে টসে জিতে ফিল্ডিং নেয়ার সিদ্ধান্তের জন্য সাকিবকে কাটাছেঁড়া করে ফেললেন। তারপর দিন ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত সাকিবের এক সাক্ষাৎকারে একই লেখক সাকিবকে পুরোপুরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে একের পর এক আক্রমন চালিয়ে গেলেন। লেখাটাকে সাক্ষাৎকার না বলে বরং পুলিশি জেরা বললে আরো মানানসই হয়। যেকোন মূল্যেই তিনি চাচ্ছিলেন সাকিবের মুখ থেকে শুধু একটি কথা বের করতে যে “টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে আমি ভুল করেছি!”। তার জেরার শিরোনামটাই ছিল “টস নিয়ে এত কথা বলার কারণ দেখছি না”, পড়ে মনে হচ্ছে যেন সাকিব তার টসে করা ‘ভুল’টাকে ধামাচাপা দিতে চাইছেন। সেই সাক্ষাৎকারে (পড়ুন ‘জেরা’) করা কয়েকটি নমুনা প্রশ্ন দেখুনঃ
  • টসে জিতে আপনার ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত তো এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’…
  • আমজনতার মুখে মুখে একটা কথা ফিরছে, বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাটিং করলে ভারত চাপে পড়ে যেত। আপনি একমত?
  • ঠিক আছে, আপনি ক্রিকেটীয় যুক্তিবুদ্ধি দিয়েই সিদ্ধান্তটা নিয়েছেন। কিন্তু ভারতীয় ব্যাটিং-তাণ্ডবের সময় কখনো ‘ভুলই করলাম কি না’ মনে হয়নি?
  • আলোচনাটা কি টিম মিটিংয়ে হয়েছে, নাকি টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে?
  • প্রশ্নটা আবার করছি, ভারত ৩০ ওভারেই ২ উইকেটে ১৬৯ করে ফেলার পর সিদ্ধান্তটা ঠিক হয়েছে কি না, এ নিয়ে নিজের মধ্যে একটুও দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দেয়নি?
  • সিদ্ধান্তটা বুমেরাং হয়ে যাওয়ার মূল কারণ কী?
  • ৩৭০ হয়ে যাওয়ার প্রত্যক্ষ কারণ তো বীরেন্দর শেবাগ। ও যখন ওভাবে মারছিল, অসহায় লাগছিল না?
  • এই ম্যাচ নিয়ে এমন হাইপ, মাঠভর্তি দর্শক—টস করতে নামার সময় কি একটু নার্ভাস লাগছিল?
  • ৩৭১ টার্গেট হয়ে গেলে অধিনায়কের কী-ই বা বলার থাকে! তার পরও জিজ্ঞেস করি, ব্যাটসম্যানদের আপনি কী বলেছিলেন?
বাংলাদেশ এখন আর সেই অবস্থায় নেই যে কেবলমাত্র “আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছি” সেই আনন্দেই সবাই ভাসছে, বরং বাংলাদেশ এখন অনেক পরিণত। প্রতিটি ম্যাচেই জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলতে নামে। ভারতের বিপক্ষের ম্যাচ হারায় স্বভাবতই দলের মানসিক অবস্থা খারাপ থাকার কথা, আর এ খারাপ সময়ে দলকে সামনের ম্যাচের জন্য চাঙ্গা করে রাখাটাও জরুরি — এটা বোঝার জন্য মনস্তত্ববিদ হবার দরকার পড়েনা। অথচ আমাদের সাংবাদিক সাহেব যেন সেই কাটা গায়ে নুনের ছিটা দিয়ে আনন্দ অন্বেষণে ব্যস্ত! কেন সাকিব টসে জিতে ফিল্ডিং নিলেন, সেই গূঢ় তত্ত্ব জানতে তিনি বদ্ধ পরিকর। তাই ২২শে ফেব্রুয়ারির পত্রিকায়ও দেখা গেল যে “ঝিমিয়ে পড়ল কি বিশ্বকাপ-নগর!” লেখাটিতেও বাংলাদেশ দল কেন নিজেদের উজ্জীবিত করতে শহীদ মিনারে যায়নি সেটা নিয়ে শেষ লাইনে সাকিবকে খোঁচাতে কার্পণ্যবোধ করেননি। শহীদ মিনারে গিয়ে দল মানসিকভাবে চাঙ্গা হত ঠিকই কিন্তু তাই বলে কেন যায়নি সেটা নিয়ে মায়াকান্না করার কোন কারণ তো দেখিনা। একটা কারণ হতে পারে — সাকিবের দোষ ধরা! তার লেখার শেষ লাইনটি ছিল এরকম — “ভালো তো হতোই। কিন্তু বাংলাদেশ দলে এভাবে ভাবার লোক কোথায়?” এর মানে কি? সাকিব দল নিয়ে ভাবেননা? সব ভাবনা কেবল আমাদের উৎপল শুভ্র’র মাথায়?
দান দান তিন দান” কিংবা “দিন দিন তিন দিন”! পর পর তিন দিন ধরে উৎপল শুভ্র সাকিবকে খুঁচিয়েই যাচ্ছেন। খুব জানতে ইচ্ছা করে কেন করছেন তিনি এটা? তিনি কি জানেন যে কত রকম বিচার বিশ্লেষণ আর পরীক্ষার নীরিক্ষার মাধ্যমে একজন অধিনায়ক নির্বাচন করা হয়? তিনি কি জানেন না যে টস জিতে ব্যাটিং বা ফিল্ডিং নেবার স্বিদ্ধান্ত কেবল মাত্র অধিনায়ক নেননা? তিনি কি জানেননা বাংলাদেশ দল গ্রুপের সবচেয়ে কঠিন ম্যাচটা খেলেছে তাদের প্রথম খেলায়? তিনি কি জানেন যে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আরো ম্যাচ বাকী রয়েছে? মনে হয়না। নাহলে চলমান একটা টুর্নামেন্টে নিজের দেশের অধিনায়কের পেছনে এভাবে আদাজল খেয়ে লাগার অর্থ কি? সাবোটাজ? এ ছাড়া তো আর কিছু মাথায় আসছেনা? তিনি কি ইচ্ছে করেই সাবোটাজ করছেন? ইচ্ছে করেই ভেঙ্গে দিচ্ছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের মানসিক শক্তি? সামনের ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশ যদি খারাপ করে তবে আমার তর্জনী উঠবে উৎপল শুভ্রের দিকে। আমি সব দোষ দিব উৎপল শুভ্র নামের ঐ লোকটাকে, যে কিনা আমার অধিনায়ককে হায়েনার মত নির্লজ্জভাবে কাটাকুটি করেছে!
সাকিব এই অংশটুকু তোমার জন্য ভাই! তুমি যে মাঠে স্পোর্টসম্যানশিপ আর মাঠের বাইরে স্পোকম্যানশিপের পরিচয় দিয়েছ সেটা সত্যিই অতুলনীয়। সত্যি বলতে কী আমার নগন্য ক্রিকেটিয় বিদ্যায় আমি যা বুঝি যে, বাংলাদেশ খুব ভাল এবং যোগ্য একজন অধিনায়কের হাতে রয়েছে, যে কিনা গত কয়েকমাসে আমাদের বড় বড় স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। উৎপল শুভ্ররা ক্ষণিকের অতিথি, এদেরকে কেউ মনে রাখেনা, মনে রাখবেওনা। দেশের লোক উৎপল শুভ্রকে চেনেনা, ওরা চেনে তোমাকে। তাই তো তুমি যখন রিকশা চড়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে প্রবেশ করলে দেশের লোক সজোরে করতালি দিয়ে তোমাকে বরণ করে নিয়েছিল। উৎপল শুভ্ররা কখনোই তোমাকে অনুপ্রেরণা যোগাতে পারবেনা, তাই ভুলে যাও সেসব লোকদের কথা। ষোল কোটি মানুষের লাল-সবুজ পতাকাটিকে তুমি তোমার দলকে সঙ্গী করে এগিয়ে নিয়ে যাও — আমরা সবাই তোমার সাথে আছি।
আর কিছু বলার নেই, কেবলমাত্র নিচের ভিডিওটি ছাড়া!

লেখাটি অভ্রনীল ভাইয়ের ব্লগ থেকে কপিপেস্ট করা হয়েছে।

Sunday, 20 February 2011

মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অভাব, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যা এবং কিছু প্রস্তাবনা।

বর্তমানে আরব আমিরাত দিরহামের বিপরীতে বাংলাদেশের মুদ্রার মান দাড়িয়েছে বিশ টাকায়। কিছু দিন আগেও যেটা আঠার টাকা ছিল। গত কয়েক মাসে দিরহাম এবং ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশের মুদ্রার মান পতন এবং কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের প্রথম সারির বিশটি ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক তলবের ঘটনা যথেষ্ট আশংকার সৃষ্টি করেছে। এছাড়াও কদিন আগে বাংলাদেশের শেয়ার কেলেংকারীর মত ব্যাংক কেলেংকারী ঘটে কিনা সে বিষয়ে অজানা আশংকা উকি দিচ্ছে।

বাংলাদেশের দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য অতীতের সব রের্কড ছাড়িয়ে গেছে। মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্তের নাভিশ্বাস শুরু হয়েছে এ মূল্যবৃদ্ধির কারণে। এ মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ী। যারা ম্যানেজ করছে কর্তাদের আর নাকের ডগায় মুলো ঝুলিয়ে রেখে কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়াচ্ছে নিত্যব্যবহার্য সামগ্রীর।

বাংলাদেশে বাড়ছে বেকারত্বের হার। কর্মসংস্থানের অভাব আজ বাড়িয়ে দিচ্ছে বেকারত্ব। প্রবাসেও শান্তিতে নেই প্রবাসীরা। দেশে প্রতিষ্ঠিত গার্মেন্টস শিল্প সহ বিভিন্ন শিল্প কারখানায় গ্যান্জাম লাগিয়ে তাও ধ্বংস করতে চেষ্টা করছে মির্জাফরের দল। নতুন কর্মসংস্থান সৃস্টি করা আজ বড়ই প্রয়োজন হয়ে দাড়িয়েছে।

বিদ্যুৎ এমন এক ম্যাজিকের নাম যেটা আজ আছে কাল নেই। এ এক লুকোচুরি খেলা। গ্যাসের অপব্যবহার এর ফলে গ্যাস সমস্যা সৃস্টি হতেও আর বেশি দেরি নেই।

প্রস্তাবনা:
১। ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে। বাংলাদেশে এত ব্যাংকের কোন প্রয়োজন নেই। যেগুলো থাকবে সেগুলোর শাখা এবং সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। একই কথা প্রযোজ্য ইনসিউরেন্স কোম্পানীর ক্ষেত্রেও। এমএলএম কোম্পানীগুলো অর্থ লুটছে ফাকি দিয়ে। এরা কোন দ্রব্য বিক্রি ছাড়াই লুটছে। এম এল এম কোম্পানীর কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। এনজিওগুলোর ক্ষুদ্র ঋণে সুদের হার কমাতে হবে। শেয়ার ব্যবসায় সরকারের আরো নিয়ন্ত্রন আনতে হবে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ করতে হবে।

২। দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধিতে রোধ করতে মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানীতে শুল্ক কমাতে হবে, রপ্তানী শুল্ক বাড়াতে হবে। আমদানী কারকদের এলসি খুলতে সুবিধা এবং পন্য খালাসে আরো গতিশীল ব্যবস্থা রাখতে হবে। কৃষকদের সার ও ডিজেলের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি প্রদান করতে হবে এবং পন্য বাজারজাত করনের জন্যও পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। এক্ষেত্রে পন্য মজুদের জন্য আধুনিক হিমাগার বাড়াতে হবে।


৩। দেশের শিল্পকারখানায় যাতে কোনধরণের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃস্টি না হয় সেদিকে শতভাগ দৃস্টি রাখতে হবে। শ্রমিকরা যাতে ন্যায্যবেতন পায় তাও নিশ্চিত করতে হবে। আবার উৎপাদিত সামগ্রী বিপণনেও সরকারকে ভূমিকা রাখতে হবে। দেশীয় শিল্প কারখানা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে বিদেশ থেকে দ্রব্য আমদানীর চাপ কমানো যায়। ইপিজেড এর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। দেশীয় শিল্পকারখানা গুলোকে জীবিত করতে হবে। বিদেশে প্রশিক্ষিত শ্রমিক প্রেরণ করতে হবে এবং প্রেরীত শ্রমিকরা চুক্তি অনুযায়ী ন্যায্য বেতন ও সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে কিনা কিংবা তাদের থেকে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ভিসা দিয়ে হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে সর্তক দৃস্টি রাখতে হবে।


৪। বাংলাদেশে গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থা একেবারেই হাস্যকর। লাইনের মাধ্যমে যে গ্যাস দেয়া হয় তা আনলিমিটেড এবং দামও সস্তা। একচুল্লি তিনশটাকা, দুচুল্লি সম্ভবত সাড়ে চারশ টাকা। অথচ সিলিন্ডার গ্যাসের দাম নেয়া হচ্ছে অযৌক্তিক ভাবে বার-তেরশ টাকা। লাইনের গ্যাস যথেচ্ছা অপব্যবহার হচ্ছে। গোসলের পানি গরম করতে কিংবা কাপড় শুকাতেও কিংবা দেশলাইয়ের কাঠি বাচাতে গ্যাস জ্বালিয়ে রাখা হচ্ছে। লাইনের গ্যাস বিতরণ সিস্টেম বন্ধ করতে হবে। সিলিন্ডার গ্যাস এর দাম কমিয়ে এটি সহজ লভ্য করতে হবে। যেটা উন্নত বিশ্বে করা হয়। এতে করে গ্যাসের অপচয় রোধ হবে এবং সর্বপর্যায়ে গ্যাসের সরবরাহ সম্ভব হবে। কাফকোর মাধ্যমে যে হারে গ্যাস অপচয় হচ্ছে তা বাতুলতা মাত্র। এ চুক্তি বাতিল করতে হবে।

মাঝে মাঝে শুনতে পাই কচুরীপানা, পাথরকুচি কিংবা গোবর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা। এসব প্রকল্প হাস্যকর এবং উদ্ভট। কিপরিমান কচুরীপানা, পাথরকুচি কিংবা গোবর প্রয়োজন বাংলাদেশের একদিনের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব তা মনেহয় গবেষনার বাইরে রাখা হয়। এসব প্রকল্প বাদ দিয়ে পারমানবিক কিংবা তাপবিদুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।

আমি কোন গবেষক কিংবা রাজনীতিবিদ নই। এসব আমার অনুর্বর মস্তিস্ক প্রসুত। তবে পাঠকের মতামত এর অপেক্ষায় রইলাম।

Saturday, 19 February 2011

কল ব্লক বা ব্লাক-লিস্ট করুন বিনা পয়সায়

বর্তমান সময়ে মোবাইল ব্যবহারকারী প্রায় সবাই পরিচিত-অপরিচিত নাম্বার থেকে বিভিন্ন সময়ে কল/মিসকল এর যন্ত্রনায় অতিষ্ট-বিরক্ত। কিন্তু আপনি চান না এমন বিরক্তকর বা বিশেষ বিশেষ নম্বর থেকে আপনার মোবাইলে কল / মিসকল করুক। এর জন্য আমাদের মোবাইল কোম্পানীগুলো Value Added Service চালু করেছে। মানে টাকার বিনিময়ে সীমিত সংখ্যক অনাকাঙ্খিত মোবাইল নম্বরকে ব্লক করা।
আপনি ইচ্ছে করলে বিনা পয়সায় যত খুশী যে কোন নম্বর ব্লক কে ব্লক করতে পারেন সফটওয়্যারের মাধ্যমে। এমন একটি কার্যকর সুন্দর সফটওয়ার হলো হলো Best Blacklist. এর জন্য আপনার থাকতে হবে নকিয়া সিরিজের 3rd Edition (যেমন Nokia N73) হ্যান্ডসেট। এটা ব্যবহারে ব্লাক-লিস্টেট ব্যক্তি যতবার কল করবে ততবার সে Busy Number ম্যাসেজ পাবে। মজার ব্যপার হলো-ব্লাক-লিস্টেট ব্যক্তির নম্বর হতে হতে কত বার কয়টি কল, কোন তারিখ ও সময়ে করা হয়েছে রিসিপ্ট কললিস্ট এবং এর লগ ফাইলে আপনি দেখতে পাবেন।


সফটওয়্যারটি ডাউন করে আনজিপ করুন, কি-জেনাটরটসহ ইনস্টল করার সিস্টেম ..
Best Blacklist Install and Get Code:
1st Install "Best RejectCall.sisx" in your Mobile Memory.

GET Code: ... STEP BY STEP

**YOU CAN FIND FILE KEYGEN.EXE RUN THIS FILE, THE ICON IS HSPDA KEYGEN

** CLICK LINE "PLEASE SELECT AN APPLICATION" THEN CHOOSE YOUR APPLICATION WHO NEED
THE KEYGEN EXAMPLE BEST MESSAGE STORER CLICK IT

** INPUT YOUR IMEI IN LINE IMEI TO GET IMEI IN YOUR MOBILE PHONE TYPE *#06#

** INPUT YOUR EMAIL IN LINE EMAIL
**CLICK GENERATE

THEN YOU WILL SEE THE CODE INPUT THIS CODE IN YOUR MOBILE PHONE OKE GUYS ITS EASY AND FREE

Wednesday, 9 February 2011

আমার পাপ

আমার পাপ
জিয়া চৌধুরী


আজকাল নিজেকে বড় বেশি অসহায় বলে মনে হয় কেন?
ঝরে পড়া পাতার মত, শুকিয়ে যাওয়া বৃক্ষ কান্ডের মত।
এই আমি- কখনো কি কারও জন্য এতটুকু করিনি?
নাকি, যা কিছু করেছিলাম তা বিলীন হয়ে গেছে স্বার্থপরতার চোরাবালিতে।

আমার দীর্ঘশ্বাসেরা আমার সংগী হয়
আজীবন যে আমি নিজেকে অনেক বেশি সাহসী মনে করতাম
আজ আমার চেয়ে ভীতু এই পৃথিবীতে আরেকটিও নেই।
আমার ব্যর্থতা কি আমার পাপের স্বাক্ষী বহন করছে।

আসলেই কি আমি ব্যর্থ
পুত্র হিসেবে, ভাই হিসেবে, স্বামী হিসেবে, বন্ধু হিসেবে।
আমার পাশে সব থেকেও আজ আমি এত নি:স্ব কেন?
কেন আমি সব হারিয়ে হতাশার বেড়াজালে বন্দী?

নষ্ট আমি, এক বুক কষ্ট নিয়ে প্রতিটি দিন রাত পার করি।
আমার কষ্টটুকু বোঝার, আমার বুকের ভিতর জালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়া
আগুনটুকু নেভানোর জন্য আমার পাশে কেউ নেই কেন?
কেন আমি আজ এত বেশি অসহায়?

Wednesday, 12 January 2011

আমাকে বাঁচতে দাও

আমাকে বাচতেঁ দাও
জিয়া চৌধুরী

১১-০১-১১
আমাকে বাচঁতে দাও
আমি বাঁচতে চাই
তৃষ্ণায় যে বুকের ছাতি ফেটে যায়।
আমার সারা শরীরে ব্যাথা
আমার শরীর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে কেন?
আমাকে বাচাঁও, বাঁচতে দাও।
আমাকে এবারের মত ছেড়ে দাও।
আমি আর কখনো সীমান্ত পার হবোনা
আমি আর কখনো প্রিয় দেশ ছেড়ে তোমাদের দেশে যাবনা।
আমাকে আর একবার বাচতেঁ দাও
আজ সন্ধ্যায় আমি বধু সাজে সাজব
আমার জন্য অপেক্ষা করবো আমার হবু বর
আমাকে তার কাছে ফিরতে দাও।
তোমরা কি মানুষ? নাকি পিশাচ
আমি আধঘন্টা যাবত ঝুলে আছি রক্তাক্ত যন্ত্রনায়
তোমরা পাকি হায়েনার চেয়েও নির্মম, বর্বর
নিরীহ নারীর উপর গুলি চালিয়ে তোমারা বাহাদুর সাজ।
তোমাদের ক্ষমা নেই
আমার স্বদেশবাসী তোমাদের ক্ষমা করবেনা
আমার প্রতিটি রক্তফোটার বদলা তারা নেবেই নেবে।

Wednesday, 5 January 2011

চতুর্মাত্রিক

চতুর্মাত্রিক
জিয়া চৌধুরী

-------------------------
চতুর্মাত্রিকে আজ আমরা বন্দি ভীষন
হীরা ভেবে ভুল করে কাচ তুলে নিই
মোহ আর ভালবাসা এক করে দিই
মোহ কেটে গেলে বলি
এত হীরে নয়- দুর ছাই দুটাকার কাচঁ।
অথচ ভালবাসা কেটে যায়না কিছুতেই
জীবনে ও মরণে এক সাথে থাকা।
তবুও আমার কাঁচকেই ভাল লাগে।
হীরা যে অনেক দামী-
বড় বড় শপিং মলের শোকেচে তাকে দেখতে ভাল লাগে।
কাচঁ পাওয়া যায় অতি সহজে।
তাই আমার কাচঁই বেশি প্রয়োজন- বহুমূল্য হীরের চেয়ে।